বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া কলেজ ছাত্র আলী হোসেন সৌরভকে (১৯) পিটিয়ে হত্যায় জড়িত আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে এলাকার কিছু চাঁদাবাজ যুবক তাকে তুলে নিয়ে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। থানায় মামলা হলেও হত্যার কোনো কূলকিনারা এখনো হয়নি।
জানা যায়, বগুড়া সদরের ঠেঙ্গামারা গ্রামের ট্রাক চালক আব্দুল মমিন সাকিদারের ছেলে টিএমএসএস টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিল সৌরভ। জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে সৌরভের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। ৫ আগস্ট পট পরিবর্তন হলে এলাকায় নতুন কিছু চাঁদাবাজের আবির্ভাব হয়। তারা বিভিন্ন ছাত্রাবাসে চাঁদা আদায় শুরু করে। সৌরভ চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় সৌরভকে ডেকে নিয়ে যায় একদল যুবক। নেওয়ার আধা ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে খবর দেয় সৌরভ গুরুতর অসুস্থ। পরে বকাটে চাঁদাবাজরাই মোটরসাইকেলযোগে সৌরভকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে ভর্তির আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত সৌরভের বাবা মমিন সাকিদার বলেন, হাসপাতালের সামনে ছেলেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সৌরভের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ফোলা জখম ছিল। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরদিন ছয়জনের নামে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বারবার থানায় যোগাযোগ করলেও বলা হচ্ছে, আসামি পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ আসামিদের রাতের বেলা এলাকায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে দেখা যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দিন জানান, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে আসামিরা । পুলিশ বিভিন্ন কৌশলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।