৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৩ অক্টোবর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বান্দরবানে সর্বাত্মক হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। সেই হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় প্রশাসনের অনুরোধে নাগরিক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা শান্তি প্রিয় মানুষ, শান্তি চাই। আমাদের দাবি আদায়ের জন্য আমরা হরতালের ডাক দিয়েছিলাম এবং বান্দরবানের সর্বস্তরের মানুষ হরতালকে সমর্থন করেছে। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের ভাল একটা সম্পর্ক আছে। প্রশাসন আমাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে এবং খুব দ্রুত যেগুলো প্রশাসনের হাতে রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে। তাই আমরা হরতাল প্রত্যাহার করেছি। তবে যদি বাস্তবায়নের নামে তালবাহানা করা হয় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তালেব এস এম হাসান এবং নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মুজিবর রহমানসহ সিনিয়র নেতারা। বৈঠকে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর আশ্বস্ত হয়ে হরতাল প্রত্যাহার করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ৮ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-
১. ব্রিটিশ রচিত প্রহসনের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল করে সংবিধানের আলোকে তিন পার্বত্য জেলার শাসন ব্যবস্থা চালু করা।
২. জমি ক্রয়-বিক্রয়, চাকুরি, শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে রাজার সনদ বাতিল করা।
৩. দেশের ৬১ জেলার মতো রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করা।
৪. বাজার ফান্ড প্লটের লিজের মেয়াদ-৯৯ বছরে উন্নীত করা ও বন্ধ রাখা ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালু করা।
৫. উন্নয়নের স্বার্থে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় পরিবেশ বান্ধব ইটের ভাটাসহ কলকারখানা ও ইন্ডাস্ট্রি চালু করা।
৬. আইন-শৃঙ্খলা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে তিন পার্বত্য জেলায় প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করা।
৭. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে চাঁদাবাজি, গুম, খুন, ধর্ষণ বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে তিন পার্বত্য জেলায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
৮. শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, চাকরিসহ সব ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সমান অধিকার প্রদান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।